আমি তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়তাম । আর সে ছিল ষষ্ঠ শ্রেণীতে । আমাদের প্রথম পরিচয় খেলার মাঠে । সেদিন ছিল বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা । আমি এবং আমার বন্ধুরা মাঠে খেলা দেখছিলাম । হঠাৎ আমার দৃষ্টি পড়ল তার দিকে ।
এমন মায়াবী চেহারা আমি আর কোনোদিন দেখিনি । সে তখন বালিশ খেলা দিচ্ছিল । আমি শুধু তার দিকে তাকিয়ে রইলাম । আমার এক বন্ধু নাবিল বিষয়টি লক্ষ্য করলো । সে আমাকে ইয়ার্কি মেরে বলে উঠল কিরে দোস্ত ট্রেন উল্টে যাবেতো । আমি একটু থমকে গেলাম ।
পরের দিন আমি তাকে খুজতে খুজতে ষষ্ঠ শ্রেণীতে গিয়ে হাজির হলাম । শুরু হলো আমার নতুন ডিউটি । কিসের আর পড়াশোনা । ধীরে ধীরে সব গোললায় যেতে লাগলো ।
ধীরে ধীরে আমার এই কাহিনী অনেকের নজরে পরলো । আমি প্রতিদিন স্কুল থেকে বাসায় আসার পর প্রস্তুতি নিয়ে আমার বন্ধু নাবিলকে নিয়ে তাদের এলাকায় চলে যেতাম তাকে একটু দেখার জন্য । মাঝে মধ্যে সে বাসা থেকে বের হলে তাকে এক নজর দেখতাম । আবার কখনো হয়তো তাকে না দেখতে পেয়ে মন খারাপ করে বাসায় ফিরতাম । এটাযে কী এক মানুষিক যন্ত্রনা কাউকে বোঝানোর মত না । আমার একটা সাইকেল ছিল । মাঝে মাঝে সাইকেল দিয়ে স্কুল ছুটির পর তার পিছনে ছুটতাম । কয়েকদিনের মধ্যেই নীলা তা বুঝতে পারল ।
তাকে দেখার জন্য কলিজাটা সবসময় ধরপর করতো । আর সারাক্ষন এক অস্থিরতার মধ্যে থাকতাম । তারপর শুরু হলো আমার নতুন মিশন । আর এই বুদ্ধিটা দিল নাবিল । সে বলল দোস্ত শোন নীলার কাছাকাছি যেতে হলে তার বান্ধবীদের কাউকে পটাতে হবে । তার বান্ধবীদের কেউ তোকে সাহায্য করলে কাজটা তোর জন্য সহজ হবে । তাই আমি ও নাবিল চেস্টা করতে লাগলাম ।
হ্যা কয়েকদিনের মধ্যে তার এক বান্ধবী সিন্থিয়া আমাকে সাহায্য করার জন্য সম্মতি দিল । আমি সিন্থিয়াকে বললাম নীলার সাথে কথা বলার সুযোগ করে দিতে । সিন্থিয়া আমাকে বলল আপনি ভালো করে একটা চিঠি লিখে দেন । আমি সেই চিঠিটা তাকে দিয়ে দিব । আমিও তার কথামত নাবিলকে নিয়ে সুন্দর করে একটা চিঠি লিখলাম । তারপর চিঠিটা সিন্থিয়াকে দিয়ে দিলাম । দেয়ার পর অনেক ভয় পেতে লাগলাম ।
যদি নীলা স্কুলে স্যারের কাছে বিচার দেয় । যদি তার বাড়িতে বলে দেয় । যদি তার বাবা-মা আমার বাসায় বিচার নিয়ে আসে -– তখন কী হবে । সেই দুশ্চিন্তায় রাতে আর ঠিকমত ঘুমাতে পারলামনা ।
পর্ব-০২
প্রিয় নীলা .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. ..
চলবে
collected
No comments:
Post a Comment